৭ মে ২০২৬

ধুনটে প্রতিবন্ধী প্রিয়া রানীর কোন আশাই পুরণ হয়নি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
ধুনটে প্রতিবন্ধী প্রিয়া রানীর কোন আশাই পুরণ হয়নি

ইমদাদুল হক ইমরান, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: যে বয়সে তার হই-হুল্লোড়ে মেতে থাকার কথা, বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা। সেই বয়সে প্রিয়া রানীকে নিথর হয়ে বসে থাকতে হয় চেয়ারে। প্রিয়া রানীর জন্মই যেন আজন্ম পাপ। স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েও তিন মাস বয়সে অজানা রোগ তাকে বানিয়েছে শারীরিক, মানসিক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী। শারীরিক অক্ষমতার কারনে প্রিয়া রানীর কোনো আশাই পূরণ হয়নি।

প্রিয়া রানী বগুড়ার ধুনট উপজেলার পিরহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা অতোশ কুমার সাহা ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ভাই বোনের মধ্যে প্রিয়া বড়। মা আশা রানী সারা দিন মেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। সহায় সম্বল বলতে ৪ শতক বসতভিটা। বাবার সামান্য আয় দিয়েই চলে চার জনের সংসার। এত কষ্টের মাঝেও প্রিয়ার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোন সহায়তা।

শনিবার সরেজমিন প্রিয়া রানীকে দেখে তার কষ্টটা বোঝা যায়। প্রিয়া দাঁড়াতে পারে না, হাঁটতেও পারে না। সারা দিন ঘরের বারান্দায় চেয়ারে বসে থাকতে তার খুব কষ্ট হয়। মা তাকে নাওয়া-খাওয়া করান। চলাচলের একমাত্র ভরসা মায়ের কোল। তার জন্য দরকার একটু সহযোগীতা। একটু সহমর্মিতা। প্রয়োজন একটি হুইল চেয়ার।

মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পরিবারটি। প্রিয়ার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা প্রয়োজন। তাকে সহায়তায় সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রিয়া সহায়তা পেলে আর দশজন মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন না পেলেও, হয়তো সংসারের অভাব কিছুটা দুর হতো। এমন প্রত্যাশায় দিন কাটছে পরিবারটির।

প্রিয়ার মা আশা রানী জানান, অন্যরকম এক জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তিন মাস বয়সে প্রিয়ার জ্বর হয়। টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা করাতে পারেনি। বিয়ের সময় মা-বাবার দেওয়া সোনার গহনা ও গবাদিপশু বেচে মেয়ের চিকিৎসায় ব্যয় করেছে। কিন্ত তাকে প্রতিবন্ধকতার থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানের প্রিয়ার বয়স ১৫ বছর। সেই আতুর ঘর থেকে মেয়ের সব কাজ তাকেই করতে হয়। কিন্তু এখন তার আর শরীরে কুলায় না।

প্রিয়ার বাবা অতোশ কুমার সাহা জানান, অভাবের সংসারে মেয়ের জন্য বাড়তি কিছু করাটা কঠিন। তারপরও চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েকে এখনো একটা হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারেননি। তারপর রয়েছে হাজারো সমস্যা ও সংকট।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রিয়া রানীর পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার জন্য কোন আবেদন করেনি। তারপরও খোঁজ খবর নিয়ে প্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি