ধুনটে বাড়িতে বাবার মৃতদেহ রেখে পরীক্ষা দিল পপি

ইমদাদুল হক ইমরান, ধুনট (বগুড়া) থেকে: পপি খাতুন বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দোয়ার পরিবর্তে বাবার মৃতদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয় তাকে। এক হাতে চোখ মুছে আর অন্য হাতে খাতায় উত্তর লিখেছে পপি। পপি খাতুন বগুড়ার ধুনট উপজেলার আটাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে মারা যান পপি খাতুনের বাবা শহিদুল ইসলাম (৫০)। বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছে পপি খাতুন। সোমবার সকালে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ০৪ নম্বর কক্ষে বসে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় পপি। তার রোল নম্বর ম-৩০৮৫। পপির বাবার মৃত্যুতে পরীক্ষা কেন্দ্রে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানা যায়, পপি খাতুন উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও ঝলমলি বেগমের মেয়ে। পপির বাবা শহিদুল ইসলাম নির্মান শ্রমিক ছিলেন। সোমবার সকালের দিকে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্বজনেরা তাকে চিকিৎসা করার সুযোগ পাননি।
এদিকে শোক সংবাদ পেয়ে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল শোকাহত পপি খাতুনের খোঁজখবর নিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন, সান্তনা দেন। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন তিনি। বাবার মৃতদেহ শেষবারের মত দেখার জন্য পপি খাতুন চোখ মুছতে মুছতে বাড়ির পথে রওনা হন।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি