৪ মে ২০২৬

ধুনটে আবাসিক এলাকায় দূষিত পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
ধুনটে আবাসিক এলাকায় দূষিত পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

ইমদাদুল হক ইমরান,ধুনট (বগুড়া) থেকে: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আবাসিক এলাকায় মাছ চাষের নামে জলাশয়ের পানি দুষিত করায় জনস্বাস্থ্য হুমকিরমুখে পড়েছে। পানির দূর্গন্ধে পারিবেশের ক্ষতিসহ জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে বানুখার দিঘি নামে সরকারি একটি জলাশয় রয়েছে। জলাশয়ের আয়তন ৪ একর ৭২ শতক। এই জলাশয়ের চারদিকের পাড়ে ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য ১৯৯৬ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা গুচ্ছগ্রাম গড়ে তুলেছে।

সেখানে ৬০টি পরিবার মাথাগোঁজার ঠাই করে নিয়েছে। গুচ্ছগ্রামের ভূমিহীন পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে ওই জলাশয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এছাড়া গৃহস্থালী কাজে জলাশয়ের পানি ব্যবহার করেছে। কিন্ত ৬ মাস আগে জলাশয়টি উপজেলা পরিষদ থেকে তিন বছর মেয়াদে ইজারা বন্দোবস্ত দিয়েছে। স্থানীয় মথুরাপুর গ্রামের মকুল চন্দ্র হওয়ালদার জলাশয়টি সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ইজারা বন্দোবস্ত নিয়েছেন। জলাশয়ে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছেন। মাছের খাদ্য তৈরীর নামে জলাশয়ের পানিতে সার, মুরগীর বিষ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ছিটিয়ে দিয়েছে। ফলে পানি দূষিত হয়ে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পানি।

এতে পরিবেশের ক্ষতিসহ জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গুচ্ছগ্রামবাসি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিয়েছে। ওই গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ বলেন, জলাশয়ে মাছ চাষ করে এই গ্রামের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন মাছ চাষের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গ্রামের মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছে। এছাড়া জলাশয়ের পানি ব্যবহার করতে গেলে নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বর্তমানে পানি দূষিত হওয়ায় এখানে বসবাস করা যাচ্ছে না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ভাবে উদ্যেগ নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

এ কারনে গ্রামবাসিকে আইনী সহায়তা পেতে উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে মকুল চন্দ্র হাওয়ালদার বলেন, মাছের খাবারের জন্য জলাশয়ে বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগ করেছি। এতে পানি কিছুটা বিবর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিতে পানি পরিস্কার হয়ে গেছে। এতে গ্রামবাসির কোন ক্ষতি হবে না। তারপরও একটি মহল শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, গ্রামবাসির অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি