৪ মে ২০২৬

দেশের দুর্নীতি বন্ধে বিরোধী দলকে শক্তিশালী করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
দেশের দুর্নীতি বন্ধে বিরোধী দলকে শক্তিশালী করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক হারে দুর্নীতি হচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতির ফলে দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দুর্নীতি না থাকলে দেশের চেহারাই পাল্টে যেতো, দেশ আরও এগিয়ে যেত বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য দেশ থেকে ফিরে আসা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ড, সিদ্দিকুর রহমান। দেশ থেকে সাম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে স্থানীয় সময় শনিবার (জুন ৫) দুপুরে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় দেশের পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।তিনি বলেন মুজিবকোট গায়ে দিয়ে আওয়ামীলীগ নামধারী নেতারা কিভাবে এত মিথ্যা কথা বলেন তা দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন। বিলুপ্ত ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ড, সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশে গিয়ে করোনাকালীন সময় তিনি অসহায় মানুষদেরকে কিছু অর্থ সহায়তা দেবার কথা চিন্তা করেছিলেন, কিন্তু কাকে দায়িত্ব দেবেন সেরকম মানুষ খুঁজে পাননি তিনি। কারন স্থানীয় নেতাকর্মিসহ সর্বত্রই দুর্নীতিবাজে ভরে গেছে। তিনি বলেন, দেশের টাকা লুটপাট করে যারা লন্ডনে, যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা কানাডার বেগম পাড়ায় যারা বাড়ি করে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন তাদেরকে এখান থেকে আমরা কিছু করতে পারবো না, তবে তাদেরকে চোর বলে সামাজিকভাবে বয়কট ও ঘৃণা করি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্ভাগ্য বা বড় অসুবিধা হলো দেশে কোন শক্তিশালী বিরোধী দল নাই। তাই সরকার বা শেখ হাসিনার সমালোচনা করার মতো কেউ নেই। তাই আসুন সরকারের সমালোচনা করি এবং পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বিরোধীদল গঠন করি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সা. সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ড, সিদ্দিকুর রহমান। সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড, সিদ্দিকুর রহমান, হাজী এনাম ও শামসুদ্দিন আজাদ। এছাড়াও কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান,শাহানারা রহমান, সোলায়মান আলী ও আব্দুল হাসিব মামুন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৭টি অপকর্মের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রিয় আওয়ামীগসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন যূক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা। গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের করা এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটিকে অর্থের বিনিময়ে রদবদল, দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কর্মকান্ড ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ষড়যন্ত্রে পরিকল্পনাকারী এক চিকিৎসককে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উপদেষ্টা পদে নিয়োগসহ আরো অসংখ্য অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়। আরও পড়ুন: [embed]https://banglapress24.com/31517/[/embed] ৮ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা সভায় তিনি নিজেই সভাপতিত্ব করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সাংবিধানিক বিধিতে বিলুপ্ত হয়েছে। প্রথম ৩ বছরের জন্য শেখ হাসিনার অনুমোদিত কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৭৬ জন। বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১৭৩ জনে। অনুমোদিত কমিটির বয়স ১১ বছর পেরিয়েছে। গত ৮ বছরে তিনি নিজের পছন্দের লোকদের সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় আবিস্কার ও বহিস্কারের খেলা খেলেছেন। তার মূল ধান্দা হলো বিভিন্ন পদের লোভ দেখিয়ে সাধারন কর্মিদের কাজ থেকে অর্থ উপার্জন করা। এখনো তিনি সেটাই করছেন। তিনি সরকার, দেশ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকে নিজে নানা ধরণের বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। কয়েক বছর আগে জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগষ্ট) তার স্ত্রী শাহানারা বেগম অকারণে অট্টহাসিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সে সময়ও দু'জনেই বেশ বিতর্কিত হন। আগের বছর ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ‘সিদ্দিক আর দেখতে চাই না' বা 'নো মোর সিদ্দিক' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সংবর্ধনাস্থল। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি