৪ মে ২০২৬

দেবীগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তিল চাষ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
দেবীগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তিল চাষ

শেখ ফরিদ,দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়)প্রতিনিধি: দেবীগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তিল চাষ । সৌখিন খাবার থেকে বঞ্চিত নতুন প্রজম্ন তিল থেকে তাল কথাটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত হলেও এই তিল এখন আমরা অনেকেই চিনি না । এক সময় ভোজ্য তেলের অভাব মেটাতে দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সব গ্রামেই তিল চাষ করত কৃষকেরা । পরবর্তীতে যখন বাজারে সয়াবিন তেলের আমদানি শুরূ হয় । অপেক্ষাকৃত কম মূল্য ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটার কারনে সরিষা,তিষি,তিল ইত্যাদি তৈল জাতীয় ফসলের আবাদ কমতে থাকে । সরিষা তেলের কদর থাকায় এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমান জমিতে সরিষা আবাদ হচ্ছে । সে ক্ষেত্রে তিল ,তিষির একেবারেই আবাদ কমে গেছে । তবে বর্তমান সময়ে হাতেগনা কিছু কৃষক বাব দাদার আমলের ফসল হিসেবে ২,এক শতক জমিতে এ চাষ করে ।

এক সময় দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রতেক গ্রামে তিলের চাষ হত ব্যাপক কিন্তু বর্তমান সময়ে খুব অল্প জমিতে এ চাষ হচ্ছে । তিল চাষ কমে যাওয়ার কারন হিসেবে যানা যায় ,বর্তমানে বাজারে নানান ধরনের তেল পাওয়ার কারনে , বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নানা ধরনের ভোজ্য তেলের সহজ প্রাপ্তি ও বেশি ফসলের আশায় নিত্য নতুন জাতের ফসলের আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা।

অভিজ্ঞ কৃষকরা জানান, মাটির উর্বরশক্তি ফেরাতে তিল চাষের জুড়ি নেই। কারণ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে নানারকম ফসলের আবাদের ফলে জমির উর্বরশক্তি কমে যাচ্ছে। এসব জমিতে তিল চাষ করে জমির উর্বরশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব।দেবীগঞ্জ কৃষি অফিসার শামীম ইকবাল জানায়, এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে তির চাষ করা হয়েছে । একজন কৃষক জমিতে তিল চাষ করে একাধারে নানারকম উপকার পেয়ে থাকেন। যেমন- তিল গাছের যেসব পাতা জমিতে পড়ে তা পঁচে মাটির সাথে মিশে সবুজ সারের কাজ করে তাতে জমির উর্বরশক্তি বৃদ্ধি পায়। এ জমিতে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ফসলের চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। এ গাছের কান্ড অর্থাৎ ডাঁটা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হয়। তিল থেকে ভোজ্য তেল ও খৈল পাওয়া যায়। এ ফসলে তেমন কোন রোগ বালাই নেই বলে খুব কম খরচে সহজ পদ্ধতিতে আবাদ করা যায়। তিল থেকে শুধু তেলই পাওয়া যায় না। এ তিল দিয়ে চাউলের আটা, চাউল ও গুড় অথবা চিনি সহযোগে নানারকম পিঠা, পায়েস তৈরি হয় যা ভোজন রসিক মাত্রেই জিভে জল আসে। তিলেরখাজা তৈরি হয় এই তিল দিয়ে। ভোজ্য তেল হিসাবে তিলের তেল খুবই ভাল । তিলের খৈল গবাদিপশুর খাদ্য ও জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা তিলের মত উপকারী ফসলের কথা ভুলতে বসেছি। বছরে রবি এবং খরিফ উভয় ঋতুতেই তিলের চাষ হয়ে থাকে। তবে খরিপ ঋতুতে চাষ করলে অপেক্ষাকৃত বেশি ফলন পাওয়া যায়। তিল সাধারণত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। কালো তিল ও কাঠ তিল। কালোতিল একবারে কুচকুচে কালো। ফলে নতুন প্রজন্ম বঞ্চিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার সৌখিন খাবারের স্বাদ থেকে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি