ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার বাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢোলাদিয়া এলাকায় রাফিয়ার বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এনিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছেন উম্মা উসওয়াতুন রাফির ভাই খন্দকার জুলকারনাইন রাদ।
তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
এই বিষয়ে সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রাফিয়ার বাসায় আজ ভোরে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়েছে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গি লীগ।
আরেক পোস্টে তিনি বলেন, হায় ইন্টারিম! আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? রাফিয়ার বাড়িতে আগুন কেন? ইন্টারিমের হারামজাদারা জবাব দে।
তিনি জানান, রাফিয়ার বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর ধানমন্ডি ৩২ এ আর একটি বালুকনাও থাকার সুযোগ নাই। এরা গত ৫৫ বছর ৩২কে ক্যান্টনমেন্ট বানিয়ে লাখো রাফিয়ার বাড়ি পুরিয়ে দিয়েছে। লাখো রাফিয়াদের গুম-খুন-করেছে।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা জানান, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার বাসায় আজ গান পাউডার দিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মেয়ে মানুষ হিসেবে সাইবার বুলিং এর শিকার প্রতিনিয়ত তো হচ্ছে, কিন্তু এখন সরাসরি তার বাসায়ও আক্রমণ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডাকসুর কমনরুম, রিডিং রুম ও কাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা সামাজিক মাধ্যমে জানান, রাফিয়া ছোট, কিন্তু ভীষণ সাহসী একটি মেয়ে। জুলাই থেকে অনেকেই তাকে চেনে। কেউ না চিনলে সেটা তার ব্যর্থতা, রাফিয়ার নয়। আমি নিজেও অনেককে চিনি না, চেনা না-চেনা কোন মানদণ্ড নয়। কিন্তু এটাকে অজুহাত করে তার বিরুদ্ধে যেভাবে নোংরামি ছড়ানো হচ্ছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাফিয়ার কথা বলা, দৈহিক গঠন, রং নিয়ে পর্যন্ত নোংরামি করেছেন, এগুলো কেমন অমানবিক কাজ!
তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে যারা সোচ্চার, তারাই আজ রাফিয়ার রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে- এটা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। তাকে ‘শিবির’ ট্যাগ লাগিয়ে কু-কথা ছড়ানো, চরিত্র হনন -কেউ তাকে চেনে বা না চেনে, এসবের অধিকার কারোর নেই। রাফিয়া শিবিরের নয়, ধরে নিলাম কেউ হলেও, তবুও তাকে নিয়ে নোংরামি করার নৈতিক ও মানবিক অধিকার কারোর নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আজ সকালে ওদের গ্রামের বাড়ির গেটের সামনে আগুন দেওয়া হয়েছে, ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একজন মেয়েকে টার্গেট করে এ ধরনের সন্ত্রাসী আচরণ শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং ভয়ংকরভাবে অমানবিক। একটা মেয়েকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানানো যায়, কিন্তু তাকে শত্রু বানিয়ে তার পরিবার পর্যন্ত টার্গেট করার অধিকার কেউ আপনাকে দেয়নি। রাফিয়ার প্রতি এই সহিংসতা ও নোংরামির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি