“চির উন্নত মম শিরে” শিক্ষার্থীদের অবস্থান
আজিজুল হাকিম পাভেল, জাককানইবি থেকে: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের রাত ৮টার মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে এবং ৮টা ৩০ মিনিট এর মধ্যে ছাত্রীবাস গুলোতে প্রবেশ করতে হবে,প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাত ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে অবস্থান নেয়।
গতকাল (বুধবার) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলের মেস মালিকদের সাথে কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে সভা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্তের মধ্যে উঠে আসে রাত ৮টার মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে এবং ৮টা৩০ মিনিট এর মধ্যে ছাত্রীনিবাস গুলোতে প্রবেশ করতে হবে ।
এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রকাশিত হলে সরগরম হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফেইসবুক গ্রুপ। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত কে বিভিন্ন ভাবে প্রতিবাদ জানায় । সেই সব কমেন্টগুলোর মধ্যে ছিলো- বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বানানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে, আমরা কিন্ডার গার্ডেন এ পড়িনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হোক তাহলে, রাজশাহীর শাখা বিশ্ববিদ্যালয় বানানো বন্ধ হোক এমন সব কথা স্ট্যাটাস ও কমেন্ট আকারে প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা ।
এ বিষয়ে প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেটি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান নির্দেশ দিয়েছেন ।
চলমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলছে প্রশাসনের হটকারী সিদ্ধান্ত মানি না। এটি বর্বর যুগের নিদর্শন ও কঠিনতম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি যা আমরা মানবো না । আজ আমরা সারা রাত অবস্থান নিবো প্রশাসন কি করে দেখবো ।
তারা স্লোগান দিতে থাকে ‘স্যার রাত ৮টা বাজে!’ । আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের সাথে ছেলে শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছে।
আন্দোলন নিয়ে প্রক্টরকে অবহিত করলে ঘটনার ১ ঘন্টা পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের আসতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় রাত ১০.১৫ মিনিট পর্যন্ত স্বাভাবিক সময় তুলে ধরা হয় এবং এর বাইরে কেউ মেসে উপস্থিত হতে না পারলে তা মেস মালিক বা সিকিউরিটি ইন চার্জ কে অবগত করে রাখতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী বলেন,সামনের নির্বাচন কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। আশা করি তা সকলের জন্যই ভালো হবে।
একসময় সমন্বয় করতে গিয়ে প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান জানান, শিক্ষার্থীদের সকল সুবিধা অসুবিধার কথা মেস মালিকদের অবগত করে তা দ্রুত নিরসনে প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রশাসন কাজ করছে। এ বিষয়ে মেস মালিক রুবেল মিয়া বলেন আমরা তো স্যারদেরকে বলি নি ,তারাই আমাদের বলেছে ।
বাংলাপ্রেস/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি