৪ মে ২০২৬

চেরাপুঞ্জির ঝরনার নামকরণের ইতিহাস

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
চেরাপুঞ্জির ঝরনার নামকরণের ইতিহাস

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: চতুর্দিকে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ৷ মেঘের চাদর সরিয়ে কখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি তো কখনও সামান্য উঁকি দিচ্ছে সূর্য৷ পাহাড়ের বুক চিরে অঝোর ধারায় নামছে ঝরনা৷ ইস্ট খাসি হিলের রংযাইরতেহ গ্রামের নোহকালিকাই ঝরনার অপরূপ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান বহু পর্যটক৷ স্থানীয়দের দাবি, শুধু সৌন্দর্যই নয় নোহকালিকাই ঝরনার নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে যন্ত্রণার কাহিনি৷ সেই কাহিনি শুনে আনন্দের মাঝেও চোখে জল আসে পর্যটকদের৷

খাসিদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজ৷ বিয়ের পর সাধারণত স্বামী ঘরকন্না করতে চলে আসেন স্ত্রীর বাড়ি৷ অর্থ উপার্জনের দিকটি মূলত সামলান মহিলারা৷ বাড়ির কাজ দেখভাল করেন স্বামী৷ সমাজের নিয়ম মেনে বেশ সুষ্ঠু জীবন চলছিল রংযাইরতেহ গ্রামের বাসিন্দা লিকাইয়ের৷ তবে বেশিদিন সুখ স্থায়ী হল কই? মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্বামীহারা হলেন লিকাই৷ এক সন্তানকে নিয়ে শুরু হল বৈধব্য যাপন৷ জঙ্গলে কাঠ বয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেই মা-মেয়ের সংসার চালান লিকাই৷ ইতিমধ্যেই এক যুবকের মনে দাগ কাটলেন লিকাই৷ কিন্তু মেয়ে থাকায় দ্বিতীয়বার আর ঘর বাঁধতে রাজি হননি একলা মা৷ তবে ওই যুবকের অসীম ধৈর্য৷ ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য যেন সব কিছুই করতে পারেন তিনি৷ তাই তো লিকাইয়ের চোখে আবারও সাজানো সংসার গড়ে তোলার স্বপ্ন বুনতে লাগলেন ওই যুবক৷ বেশ কয়েকদিন পর রাজি হয়ে যান লিকাই৷ আবারও বিয়ে করলেন তিনি৷ সামাজিক রীতি অনুযায়ী লিকাইয়ের বাড়িতে এসে সংসার করতে শুরু করল যুবক৷

দিনে লিকাই কাজ করেন৷ আর মেয়েকে সামলান ওই যুবক৷ রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে নিয়ে সময় কাটতে থাকে লিকাইয়ের৷ প্রথম কয়েকদিন বেশ ভালই লাগছিল তার৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে একা চেয়েও পাশে পাননি যুবক৷ তবে তার জন্য লিকাইয়ের মেয়েকে দায়ী করতেন তিনি৷ রীতিমতো আক্রোশ তৈরি হয়ে যায়৷ লিকাই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলেই একরত্তিকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করত যুবক৷ যদিও তা ঘুণাক্ষরে টের পাননি লিকাই৷ একদিন কাজ সেরে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে পাননি তরুণী৷ হাজার খোঁজখবর করতে করতেই দিব্যি মাংস দিয়ে ভাতও খেয়ে ফেলেন লিকাই৷ এরপর পান সাজতে বসেন৷ কিন্তু ওই কাজ করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ লিকাইয়ের৷ দেখছেন পানের বাটা থেকে বেরচ্ছে কাটা আঙুল৷ মায়ের মনে কু ডেকে ওঠে৷ এ আঙুল যে মেয়ের ছাড়া কারও নয়, তা বুঝতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট৷

ইতিমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন লিকাইয়ের দ্বিতীয় স্বামী৷ পাহাড়ের কোল থেকে তাকে টেনে বের করে আনেন গ্রামবাসীরা৷ নিজে মুখে লিকাইয়ের স্বামী স্বীকার করে কেবলমাত্র আক্রোশের বশেই মেয়েকে খুন করে সে হাড় ফেলে দেয় ওই ঝরনায়৷ মেয়ের মাংসই মাকে রান্না করে খাওয়ায় সে৷ তবে এত কিছুর মাঝে আঙুলটি ফেলতে ভুলে যায়৷ তাই খুনের কথা টের পেয়েছে লিকাই৷ একথা শুনে শোকে পাথর হয়ে যান সন্তানহারা মা৷ কারও কথা না শুনে দৌঁড়ে যান ঝরনার কাছে৷ সেখানেই ঝাঁপ দেন তিনি৷ আর কেউই লিকাইকে খুঁজে পাননি৷ তারপর থেকে লিকাইয়ের নাম অনুযায়ী ওই ঝরনার নাম হয়েছে নোহকালিকাই৷ স্থানীয়দের বিশ্বাস, ঝরনার জলেই যেন অমরত্ব লাভ করেছেন লিকাই৷

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি