বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে চিকিৎসার নামে ভ্রমনের জন্য ভারত যাচ্ছেন মানুষ
মামুনুর রশিদ (মিঠু), লালমনিরহাট থেকে: বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে চিকিৎসার নামে ভ্রমনের জন্য ভারত যাচ্ছেন মানুষ। বিশেষ করে একটু জটিল রোগ হলেই বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রাখছেন না রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু স্বচ্ছল তারা দেশে চিকিৎসা করাতে মোটেও রাজী না। এক প্রকার স্টাইলে পরিনত হয়েছে। অপর দিকে টাকা-পয়সা উপার্জন আর একটু বেশী হলে চলে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে। কারণ হিসাবে জানা গেছে, রোগী ও তাদের স্বজনরা দেশে প্রচরিত চিকিৎসা ব্যবস্থা, চিকিৎসার নামে বাণিজ্য, সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা, চিকিৎসাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, অযথা রোগ নির্ণয়, পরীক্ষার পরামর্শ ও রোগী নির্ণয় পরীক্ষার উচ্চমূল্যের কারণে দেশে চিকিৎসা নিচ্ছে না অনেক রোগী। এজন্য দিন দিন সীমান্তের ইমিগ্রেশন গুলোতে রোগীদের লাইন বেড়েই চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদেশগামী রোগীদের ৭০% ভারতে যান। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বুড়িমারী পুলিশ ইমিগ্রেশন দায়ি ২০১৮ ইং সালে ১লক্ষ ৩২ হাজার মানুষ ভারতে যান। এরমধ্যে ৭০% চিকিৎসা ২৫% পর্যটন এবং ৩/৫% ছাত্র লেখাপড়া করার জন্য ভারত গমন করে। ২০১৯ ইং সালের অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৯শত ১৯ জন এযাবৎ বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন। অপরদিকে ভারত, নেপাল ও ভূটান থেকে বাংলাদেশে ২০১৮ ইং সালে আগমন করেছে ৯৬ হাজার ৯শত ৩১ জন এবং ২০১৯ইং সালে অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৮৫ হাজার ৯ শত ৮৭ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত বেশীর ভাগ ছাত্র এবং এদের মধ্যে ভ্রমনকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০%। রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া গৌরবের বিষয় নয় কিন্তু জীবন বাঁচাতে হবে তাই তারা যাচ্ছেন। কোন কোন রোগী অভিযোগ করে বলেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সামান্যতেই ঔষধ ও টেষ্টের বোঝা চাপিয়ে দেন। যার ফলে অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় সামান্য রোগ থেকে বিশাল বড় জটিল রোগে রুপান্তরিত হয়ে পরে। সবমিলিয়ে চিকিৎসার জন্য তারা ভারতেই নিরাপত্তা মনে করেন। এছাড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা খরচের চেয়ে ভারতে কম খরচে সুচিকিৎসা সেবা পাওয়ায় বাংলাদেশের রোগীরা চিকিৎসার জন্য ভারতকে বেঁছে নিয়েছেন।
বিজ্ঞ মহল মনে করেন, চিকিৎসার নামে নৈরাজ্য বন্ধ, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষ করে গড়ে তোলা ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা উপকরণ ব্যবহার করা হলে বাংলাদেশেই সুচিকিৎসা করা সম্ভব বেঁচে যেত বাংলাদেশের রোগীদের অনেক টাকা। এ বিষয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বুড়িমারী পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সাব-ইন্সপেক্টর) খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু স্বচ্ছল তারা দেশে চিকিৎসা করাতে মোটেও রাজী না। এক প্রকার স্টাইলে পরিনত হয়েছে। ২০১৮ ইং সালে ১লক্ষ ৩২ হাজার, এরমধ্যে ৭০% চিকিৎসা ২৫% পর্যটন এবং ৩/৫% ছাত্র লেখাপড়া করার জন্য ভারতে গমন করে। ২০১৯ ইং সালের অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৯শত ১৯ জন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি