বোয়ালমারী হাসপাতালের রাস্তা ব্যবসায়ীদের দখলে, পথচারীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে
বিপ্লব আহমেদ, ফরিদপুর সংবাদদাতা: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বেশির ভাগ অংশ ব্যবসায়ীরা দখল করে দোকান নির্মাণ করায় প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। রাস্তার দু’ পাশে রেলের জমি। ওই সব ব্যবসায়ীরা রেল কোম্পানীর নিকট থেকে জমি বন্ধবস্ত এনে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ওই জমিতে দোকান ঘর উত্তোলন করার সময় পাকা রাস্তার ঢালু পর্যন্ত দখল করে ঘর ও ঘরের বারান্দা নির্মাণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় দুরদুরান্ত থেকে আসা রোগিকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। হাসপাতালের প্রবেশ পথের এসব দোকানের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের সৌন্দর্য। দোকান মালিকরা রাস্তা দখল করে দোকানপাট বসানোর কারণে এবং রাস্তার পরিধি ছোট হওয়াতে হাসপাতালে প্রবেশ করার সময় এম্বুলেন্সসহ যাবতীয় যানবাহন চলাচলও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বোয়ালমারী আখ সেন্টার হতে হাসপাতালের প্রধান গেট পর্যন্ত দখল করে দোকানপাট বসেছে। হাসপাতালে প্রবেশের রাস্তার দু’পাশ দিয়ে রয়েছে ফার্মেসী, পান সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। এ দোকানগুলো রাস্তার অর্ধেক দখল করে আছে। এতে হাসপাতালে একদিক থেকে রোগির গাড়ি ঢুকলে অপরদিক থেকে কোনো যানবাহন বাইরে বেরোতে পারে না। এমনকি রাস্তা দখল করে দু’ধারে দোকানপাট বসার কারনে যানবাহন হাসপাতালে ঢোকার সময় পায়ে হেঁটেও ওই রাস্তায় যাওয়া যায় না। এতে প্রতিনিয়ত হাসপাতালের সামনেই ঘটে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে রোগি দেখতে এসে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়।
অপরদিকে হাসপাতালের বন্ধ দ্বিতীয় পকেট গেটের সামনে তাবু ফেলে বসেছে চায়ের দোকান। ওই গেটটির রাস্তা বেদখল হয়ে রয়েছে। যার কারণে ওই গেটটি কখনও খোলা হয় না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীর স্বজনেরা। রাস্তাটির পাশে বিভিন্ন ধরনের দোকান, রিকশা, অটোরিকশার দখলে থাকায় হাসপাতালে জরুরিভাবে ঢোকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের মূল ফটক দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই চলাচল করেন রোগীর স্বজনেরা। রোগীর জন্য জরুরিভিত্তিতে ওষুধ, খাবারসহ অন্যান্য দ্রব্য নিয়ে আসতে তাঁরা ফটকের মূল গেট ব্যবহার করেন। কারন হাসপাতালের পকেট গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এব্যাপারে হাসপাতালে রোগি নিয়ে আসা একাধিক যানবাহন চালকরা বলেন, রোগি নিয়ে হাসপাতালের রাস্তায় ঢুকা কষ্ঠসাধ্য হয়ে পড়েছে। মাইক্রোতে রোগি নিয়ে হাসপাতালের রাস্তায় ঢুকলে অপরদিক থেকে কোন যানবাহন আসলে ওভারটেক করা যায় না। আমাদেরকে পড়তে হচ্ছে সমস্যায়। প্রতিটি দোকান ঘর যদি পাকা সড়ক থেকে ২ হাত সরিয়ে ফেলে তা হলে কোন সমস্যা হয় না। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মোজাফফর হোসেন বলেন, আমি খুব দ্রুতই হাসপাতালের রাস্তায় ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে রাস্তা ফাকা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি