বোস্টনে ৭ মিলিয়ন ডলারের স্ন্যাপ জালিয়াতির অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের মামলা
আবু সাবেত: বোস্টনের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এমন এক জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা এত বিপুল পরিমাণ সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি (স্ন্যাপ) –এর অর্থ হাতিয়ে নেন যে, তাদের তথাকথিত লেনদেনের পরিমাণ বৈধ সুপারমার্কেটগুলোকেও ছাড়িয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী এ খবর জানা গেছে।
ম্যাসাচুসেটস জেলা অ্যাটর্নি দপ্তরের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা হলেন ৭৪ বছর বয়সী অ্যান্টোনিও বনহিউর এবং ২১ বছর বয়সী সল আলিসমে। তারা ম্যাটাপান এলাকায় অবস্থিত দুটি ছোট ভ্যারাইটি স্টোর থেকে এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাতেন বলে অভিযোগ। দোকানগুলো আকারে ছোট এবং খাবারের পণ্য সীমিত হলেও, সেখানে স্ন্যাপ রিডেম্পশনের পরিমাণ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি—যা 'বৈধ খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গতভাবে সম্ভব নয়' বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাসাচুসেটস জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি লিয়া ফোলি বলেন, 'নিশ্চিতভাবেই এগুলো কোনো সুপারমার্কেট ছিল না। এমনকি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকানও নয়। এগুলোকে কনভেনিয়েন্স স্টোর বলতেও অনেক বাড়াবাড়ি হবে। আসলে এই দোকানগুলোর একমাত্র ‘কনভেনিয়েন্স’ ছিল এখানে স্ন্যাপ জালিয়াতি করা কত সহজ ছিল।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বনহিউর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার জেসুলা ভ্যারাইটি স্টোর –এর মাধ্যমে আনুমানিক ৬.৯ মিলিয়ন ডলারের স্ন্যাপ সুবিধা রিডিম করেছেন। অন্যদিকে, আলিসমে চলতি বছরের মে মাস থেকে তার শৌল মাচে মিক্স স্টোর –এর মাধ্যমে ১ লাখ ২১ হাজার ৮৯০ ডলারের বেশি স্ন্যাপ সুবিধা অবৈধভাবে লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ। উভয়ের বিরুদ্ধেই ফুড স্ট্যাম্প জালিয়াতির একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানায়, 'অভিযোগ অনুযায়ী,জেসুলা ভ্যারাইটি স্টোর–এ বনহিউরের মাসিক স্ন্যাপ রিডেম্পশন নিয়মিতভাবে ১ লাখ ডলারের বেশি ছিল অনেক মাসে তা ৩ লাখ ডলারেরও বেশি এবং কখনও কখনও ৫ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।' তুলনামূলকভাবে, একই এলাকার একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারমার্কেট মাসে গড়ে প্রায় ৮২ হাজার ডলারের স্ন্যাপ সুবিধা রিডিম করে।
কীভাবে চলত এই কথিত স্ন্যাপ জালিয়াতি
কর্তৃপক্ষের দাবি, বনহিউর ও আলিসমে স্ন্যাপ সুবিধার বিপরীতে নগদ অর্থ লেনদেন করতেন। এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রে গোপন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক লেনদেনের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। একটি ঘটনায় বলা হয়েছে, এক আন্ডারকভার কর্মকর্তা আলিসমের কাছে ১২০ ডলারের স্ন্যাপ সুবিধা হস্তান্তর করলে তিনি বিনিময়ে ১০০ ডলার নগদ দেন।
বিচার বিভাগের অভিযোগ, তারা একাধিক গোপন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন, যেখানে স্ন্যাপ থেকে আসা অর্থ জমা হতো, পরে নগদে তোলা হতো এবং আবার জমা দেওয়া হতো যাতে এই অবৈধ আয়কে বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন বলে মনে হয়।
অভিযোগপত্রে মাসভিত্তিক স্ন্যাপ লেনদেনের বিশদ বিবরণও রয়েছে। বনহিউরের ক্ষেত্রে কোনো কোনো মাসে ২০টিরও কম স্ন্যাপ লেনদেন দেখা গেছে, আবার কোনো মাসে সেই সংখ্যা হঠাৎ আকাশচুম্বী হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসেই তিনি নাকি ১,৯০০–এর বেশি স্ন্যাপ লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেন এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৭০ ডলারের সুবিধা রিডিম করেন। বিচার বিভাগ আরও জানায়, বনহিউরের স্ন্যাপ সংক্রান্ত লেনদেনের ৯০ শতাংশই ছিল ৯৫ ডলারের বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে ফোলি বলেন, 'গোপন তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেকোনো ব্যক্তি ইবিটি কার্ড নিয়ে দোকানে ঢুকলেই সহজে শত শত ডলারের স্ন্যাপ সুবিধা নগদে রূপান্তর করতে পারত।' তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা স্ন্যাপ সুবিধার বিনিময়ে মদও বিক্রি করতেন যা সরাসরি ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন।
এই দুজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তারা আমার ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের খাওয়াও নামের একটি অলাভজনক সংস্থার তৈরি ও দান করা মান্নাপ্যাক খাবার প্যাকেট বিক্রি করতেন। এই খাবারগুলো বিদেশে অনাহারে থাকা শিশুদের মানবিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযুক্তরা প্রতিটি প্যাকেট ৮ ডলারে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি