
সাবেদ সাথী : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা মামলার অভিযুক্ত পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন।স্থানীয় সময় সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে পারে বলে এক সংবাদ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদপত্র ‘ডেইলি কলার’।
রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে উৎসাহব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে ডেইলি কলারকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন।
প্রসঙ্গত, রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।শিকাগো, সিয়াটল, আটলান্টা এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে তিনি পর্যায়ক্রমে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রাশেদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পরে ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় সচিব হিসাবে জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি নাইরোবি, কুয়ালালামপুর ও ব্রাসিলিয়া দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই বছরেই রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন ২০১৪ সালে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে লিখেছিলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত একজন খুনি রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছে। এই বিচারহীনতা শেষ হতে হবে। রাশেদ চৌধুরীর দেশে ফেরত যাওয়ার সময় এখন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জন ডে সুলিভানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১ আগস্ট রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন।
এরপর রাষ্ট্রদূত ডেইলি কলারকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এগিয়ে আসার কারণে আমাদের আশা এখন অনেক বেশি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের মনোভাব খুবই পরিষ্কার।’ তিনি হতাশা প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এ বিষয়ে ওবামা প্রশাসন কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বঙ্গবন্ধুর খুনি একেএম মহিউদ্দিনকে ২০০৭ দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল।

এদিকে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জড়িত পলাতক ছয় খুনির মধ্যে দুজনের অবস্থান জানা গেলেও অন্য চারজন কোথায় আছে সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। তিন খুনির বিষয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও চতুর্থজন রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের হদিসই পাওয়া যায়নি। আর যাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের ফেরানোর বিষয়টিও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। নানা আইনি জটিলতায় তাদের ফেরানো যাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে পলাতক মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে কানাডার ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। একই বছরের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাংলাদেশে থেকে থাইল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিও দেয় তৎকালীন সরকার। খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিতে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার পথ উন্মুক্ত করে। বিচার শেষে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়।
ওই পাঁচজন হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, মেজর (অব.) শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যানসার), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) ও মেজর (অব.) বজলুল হুদা। অন্য এক আসামি মেজর (অব.) মো. আবদুল আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।
অন্য ছয় খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা হলেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান। গ্রেফতার ও প্রত্যার্পণ ঠেকাতে এই খুনিরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়া ও আফ্রিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারবার অবস্থান বদল করছেন।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]