৬ মে ২০২৬

বিকট শব্দে উড়ে যায় ভোটমারীর ভাকারি রেলব্রিজ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
বিকট শব্দে উড়ে যায় ভোটমারীর ভাকারি রেলব্রিজ

মামুনুর রশিদ (মিঠু),লালমনিরহাট থেকে ১৯৭১ সালের জুন মাস। শীতলকুচি ইয়ুথ ক্যাম্প থেকে ভারতীয় ফুলবাড়ি ক্যাম্পে হঠাৎ ডাক পড়ে মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলামের। উদ্দেশ্য পাক সেনাদের প্রবেশে বাধা দিতে লালমনিরহাটের ভোটমারী ও বড়খাতা এলাকায় রেলপথের ২ টি ব্রিজ উড়িয়ে দেয়া। তার সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র দুটি একটি মহিষের গাড়িতে করে পাঠান ঘটনাস্থালে।

ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বাংলাপ্রেসকে বলেন, পরিকল্পনা মাফিক রেলব্রিজে ডিনামাইট সেট করা হয়। সেদিন ছিল শুক্রবার, জুম্মার নামায শেষে বিকট শব্দে উড়ে যায় ভোটমারীর ভাকারি রেলব্রিজ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রেলপথ। বুড়িমারীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যে কারণে যুদ্ধ চলার সময় সেদিকে আর পাকবাহিনী যেতে পারেনি। তিনি ১ হাজার ৬ শ’জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এরই পাশাপাশি তিনি এক লাখ শরর্ণাথীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। ছিলেন হাতীবান্ধা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম কমিটির প্রথম সম্পাদক, তৎকালীন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, ভারতের শীতলকুচিতে নর্থ জোনের যুব প্রশিক্ষণের প্রধান। ১৯৭১ সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সহপাঠীদের নিয়ে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৩ মার্চ বাংলার পতাকা তোলেন। রাজশাহী শহরে ছাত্রদের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে গুলি ছুড়ে পুলিশ। কয়েকজন নিহত হয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় কলেজ। ৫ মার্চ বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন হাতিবান্ধায়। ৭ মার্চ রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেন। ৯ মার্চ হাতীবান্ধা ডাকবাংলো মাঠে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয় হাতীবান্ধা সংগ্রাম পরিষদ। ২৭ মার্চ ভারতের কোচবিহার জেলার শীতলকুচিতে প্রবেশ করে জনসংযোগ শুরু করেন নজরুল ইসলাম। আসতে শুরু করে রংপুর দিনাজপুরের লাখো শরণার্থী। সেই জোনে নজরুল ইসলামকে ইনচার্জ করা হয়। রাজাকাররা তখন তার মাথার বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ টাকা।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা এবং ১৯৩৮ সালের অক্টোবরের ২৪ তারিখে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেন। তিনিই দেশের এক মাত্র মহান বীর যিনি জন প্রতিনিধি না হয়েও ১৬ শত মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি এক লাখ শরর্ণাথীর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি