বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি ফজলুল হকের ১ম মৃত্যু বাষির্কী পালিত

মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর থেকে: বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি ফজলুল হকের ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) ১ম মৃত্যু বাষির্কী পালিত হয়। তিনি ২০১৯ সালে ১৪ মে ইন্তেকাল করেন। ৭২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। করোনা বেশ্বিক মহামারীর কারণে তার পরিবার অসহায়, দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করেন। পারিবারিক সুত্র জানায়, গৌরীপুর ষ্টেশন রোডের রাস্তাটি ‘ফজলুল হক সড়ক’ নামে নামাকরন করার কথা থাকলে ও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ ব্যাপারে গৌরীপুরবাসী সড়কটির নামকরণের বাস্তবায়নে পৌর কতৃর্পক্ষ সুদৃষ্টি কামনা প্রত্যাশা করছে।
ফজলুল হক এমন একজন মানুষ, যিনি এ দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরীক থাকার সুভাগ্য হয়েছিল। ৬৬ এর ৬ দফা,৬৯ এর গনঅভ্যূত্থান,৭০ এর নিবার্চন, ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে গর্বিত ব্যাক্তি। গৌরীপুর স্টেশন রোডের বাসিন্দা ফজলুল হকের ১৯৪৭ শে জন্ম । বাবা মরহুম মৌলভী জলফু মিয়া,মা মোছাঃ অানোয়ারা বেগম। ছোটবেলা থেকে তিনি রাজনৈতিক সচেতন। সপ্তম শ্রেণীতে পড়াবস্থায ছাত্রলীগের গৌরীপুরের সভাপতি নিবার্চিত হন। ৬৬- তে বাংলার মুক্তির সনদ বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের সপক্ষে চোঙা ফুকিয়ে প্রচারাভিযানে নামেন। ৬৯ সালে গৌরীপুর কলেজের ভিপি নিবার্চিত হন। এ সময় অাগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙ্গালী জাতীর স্বাধীকার অান্দোলনের মহান নেতা মুজিবকে গ্রেফতার করলে সারা দেশের ন্যায় গৌরীপুরে ও শুরু হয় ছাত্র অান্দোলন। প্রতিদিন গৌরীপুরে মিছিলে, স্লোগানে মুখরিত হতো ২৭ জানুয়ারি ভিপি ফজলুল হকের নেতৃত্বে যথারিতি মিছিল বের হলে পুলিশ মিছিলটি মধ্যবাজারে অাসলে পুলিশ মিছিলেরর উপর গুলি ছুড়ে, এতে গৌরীপুর কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র অাজিজুল হক হারুণ শহীদ হন।
সত্তরের নিবার্চনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারন করে ফজলুল হক বলেন,কলতাপাড়ায় হয়ে বঙ্গবন্ধু নান্দাইল যাবেন, বঙ্গবন্ধু অাসার পর গাড়ী থেকে তিনি নামেন,কুশল বিনিময় হয়।এক পর্যায়ে অামি বলি,গৌরীপুরে চলেন।তিনি বলেন সময় নেই, নান্দাইল যেতে হবে।অামি বলি অাগে গৌরীপুর যেতে হবে।বঙ্গবন্ধু ধমকের সূরে যাবো না বলে গাড়ীতে উঠে পড়েন।এ সময়ে অামিসহ নেতাকর্মিরা গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়ি। বঙ্গবন্ধু ড্রাইভারকে বলেন গাড়ী চালাও। ড্রাইভার বলেন কিভাবে চালাবো? নেতাকর্মিরা রাস্তা শুয়ে পড়েছে।এ সময় বঙ্গবন্ধু গাড়ীর পিছনো ট্রাকের উপর ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন এমপি, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ অাশরাফুল ইসলাম মন্ত্রীসহ নেতৃবৃন্দ । তখন সৈয়দ অাশরাফ দু’ হাতে করজোড় করে বলেন, ফজলু ছেড়ে দে।বঙ্গবন্ধু যেতে না পাড়লে রফিক ভূইয়া ফেল করবেন। এ কথা শুনে অামরা উঠে পড়ি। নান্দাইলে বঙ্গবন্ধু জনসভা করেও রফিক ভূইয়াকে বিজয়ী করতে পারিনি। সত্তরে নিবার্চনে এই ফল বিপর্যয় দেশের একটি অালোচিত ঘটনা ছিল।
একাত্তরে তিনি দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য ২৭ বৎসর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ভারতের তোরায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ২৯ দিন অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।১১ নং সেক্টরের অধিনে কোম্পানি কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন চুন্নুর নির্দেশনার জন্য সদা সর্বদা এস, এল,অার নিয়ে প্রস্তুত থাকতেন।যুদ্ধে প্লাটুনের ডেপুটি কমান্ডারের দায়ীত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করে তিনি বলেন,জেক্সগ্রাম থেকে জুন মাসে অামাকে এক কাজে নেলুয়াগিরি মুক্তিবাহীনি ক্যাম্পে যেতে হয়। ক্যাম্পে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য সহযোদ্ধা কাপাশিয়ার শিবু প্রসাদ খাওয়ার পর তার প্লেটে ডিম ভাত দিয়ে সে প্লেটটা অামাকে দিয়ে বাহিরে যেয়ে বসে। এ সময়ে এল,এম, জির একটি গুলি শিবুর গলায় বিদ্ধ হলে সাথে সাথে সে মৃত্যু বরণ করে।এ ঘটনাটি আজো ভূলতে পারিনি। যুদ্ধের স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন,যুদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে বিজয় পুর পাকবাহিনী ক্যাম্পে অাক্রমন করি।এই যুদ্ধে দুর্গাপুরের সহযোদ্ধা সন্তোষ শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধা অাশোতোষ রায়,ছোট ফজলু ও অামি গ্রেনেড প্রিন্টার লেগে অাহত হই।৮ ডিসেম্বর অামরা গৌরীপুর মুক্তকরি।
দেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রিয় গৌরীপুর কলেজ থেকে বিএ পাশ করি।১৯৭২ সনে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে বাংলাদেশ অাওয়ামী যুবলীগের গৌরীপর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হই।১৯৮১ সালে গৌরীপুর থানা অাওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।পরবর্তিতে অাওয়ামীলীগ দিদ্বাবিভক্তি হলে বাকশালে যোগদিয়ে থানা কমিটির সভাপতির দায়ীত্ব পালন করি। একটা সময়ে রাজনৈতিক কারণ ও প্রেক্ষাপটে জাতীয় পাটিতে যোগ দেই। পরবর্তিতে আমি অাওয়ামীলীগে চলে অাসি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়েছে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৭৫ এর ১৫ অাগষ্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ সময়ে হতাশায় ভূগছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা অাসারপর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারসহ যুদ্ধপরাধীদের বিচার হওয়া অামার জীবদ্দশা দেখতে পেরেছি, এটি বড় পাওয়া।তা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধদের ভাতা, কর্মসংস্থান সহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সন্মান দেয়া হয়েছে।এতে অামার প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হয়েছে।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি