বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দাবি
নোমান সাবিত: বাংলাদেশে গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমন অভিযানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এ সহিংস দমন অভিযানই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
বর্তমানে ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে তাঁকে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিতে শোনা যায়-বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করো।” তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সপ্তাহব্যাপী সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়, যা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, 'হাসিনা ১,৪০০ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাই তাঁর ১,৪০০টি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। কিন্তু যেহেতু তা বাস্তবসম্মত নয়, আমরা অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ডের দাবি করছি।'
তিনি আরও বলেন, হাসিনার উদ্দেশ্য ছিল নিজে ও তাঁর পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা। তিনি এক নির্মম অপরাধীতে পরিণত হয়েছেন এবং নিজের নৃশংসতার জন্য কোনো অনুতাপ দেখাননি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের কোটা সুবিধার বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন শুরু হয়, যা দ্রুতই শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয়।
সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল ৫ আগস্ট, যেদিন শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন, আর ক্ষুব্ধ জনতা ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে—এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসি-র অনুসন্ধান।
সেদিন ঢাকার ব্যস্ত এলাকায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন, 'বিক্ষোভকারীরা সহিংস আচরণ শুরু করায় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল।'
শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিচার চলছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশন কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গত জুলাই মাসে অপরাধ স্বীকার করেছেন, তবে এখনো রায় ঘোষণা হয়নি।
শেখ হাসিনাকে ইতিমধ্যে আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে এবং আলাদাভাবে দুর্নীতির অভিযোগেও তিনি অভিযুক্ত।
বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নতুন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম, এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি