বাংলাদেশের নির্বাচন: আঞ্চলিকভাবে এর অর্থ ও প্রভাব কী
বাংলাদেশের নির্বাচন
নোমান সাবিত: বাংলাদেশে ভারতের গভীর কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ জড়িত। ঢাকা ভারতের নিকটতম প্রতিবেশীদের একটি এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত ঐতিহাসিকভাবে সমর্থন দিয়েছিল এবং বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে শক্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব সামাল দিতে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের নেতৃত্ব বা পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে ভারতের প্রভাব কমে যেতে পারে—বিশেষত যদি বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।
চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় অবকাঠামো অর্থায়নের প্রধান উৎস। সড়ক, বন্দর, রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে বেইজিং ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। চীনের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকার এলে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং ভারতের সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি বাড়বে—যা বেইজিংয়ের বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। চীনের আগ্রহ কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি ভূরাজনৈতিকও—বঙ্গোপসাগর ও তার বাইরেও প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে।
ভারত ও চীনের তুলনায় পাকিস্তানের স্বার্থ কিছুটা পরোক্ষ হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান চীনের সমর্থন পেয়েছিল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উষ্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নত হলে তা ভারতের আঞ্চলিক প্রাধান্যের বিপরীতে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি করতে পারে এবং প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ খুলে দিতে পারে। চীনের মতো পরাশক্তি না হলেও, দক্ষিণ এশিয়ায় এমন কোনো রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস যা ভারতের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করে—তা থেকে পাকিস্তান লাভবান হতে পারে।
২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের পতনের পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও চীন পরিস্থিতি গভীর নজরে রাখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এ মাসের নির্বাচনে ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী (জেআইবি)। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে উভয় দলই প্রচারণা শুরু করেছে।
ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা আওয়ামী লীগকে ২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নৃশংস অভিযানে ভূমিকার কারণে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই অস্থিরতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন। শেখ হাসিনা (৭৮) বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে আছেন। গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তাঁকে অনুপস্থিতিতে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে ভারত এখনো তাঁকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে শেখ হাসিনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, 'বর্জনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সরকার বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।'
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার অপসারণের পর বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানে একটি “প্যারাডাইম শিফট” ঘটেছে।

বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্টাডিজ ও গভর্ন্যান্স বিভাগের প্রভাষক খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান আল জাজিরাকে বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে নিম্নতম পর্যায়ে নেমেছে, বিপরীতে পাকিস্তানের সঙ্গে উষ্ণ সান্নিধ্য বেড়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা; পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কৌশলগত অবহেলা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা; এবং চীনের সঙ্গে শক্তিশালী কিন্তু হিসাবি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখা।'
এই পূর্বানুমেয় ও ধারাবাহিক অবস্থান এখন ভারতের ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে উল্টে গেছে, আর চীনের ক্ষেত্রে সংশোধিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাহলে আসন্ন নির্বাচনকে ভারত, পাকিস্তান ও চীন কীভাবে দেখছে? এই তিন দেশের জন্য ফলাফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
শেখ হাসিনার পতনের আগে পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার ও মিত্র হিসেবে দেখত।
এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারও ভারত। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত—হাসিনার পতনের আগে—ভারত বাংলাদেশে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে (টেক্সটাইল, চা, কফি, অটো পার্টস, বিদ্যুৎ, কৃষিপণ্য, লোহা-ইস্পাত ও প্লাস্টিকসহ)। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ ১.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে ভারত।
হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর চলমান উত্তেজনার কারণে স্থল ও সমুদ্রপথে উভয় দেশই পরস্পরের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যা ভারত সমর্থন করেছিল এর পর থেকে ঢাকায় কোন দল ক্ষমতায় আছে, তার ওপর নির্ভর করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উত্থান-পতন হয়েছে।
১৯৯৬–২০০১ এবং আবার ২০০৯–২০২৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। ২০২০ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, গত পাঁচ-ছয় বছরে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি স্বর্ণালী অধ্যায় রচনা করেছে।
তবে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো প্রায়ই অভিযোগ করেছে, ভারতের সঙ্গে দরকষাকষিতে হাসিনা “অত্যন্ত দুর্বল” ছিলেন। ভারতের ইকোনমিক টাইমসের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে বিএনপির এক শীর্ষ উপদেষ্টা পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় ভারতের সঙ্গে কিছু যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোট ছিল যে দলটি পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।
২০২৪ সালে হাসিনার পতন ও তাঁকে প্রত্যর্পণে ভারতের অস্বীকৃতির পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব জোরদার হয়। গত বছর বিক্ষোভনেতা ও কট্টর ভারতবিরোধী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়; দেশজুড়ে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ছড়ায়।
ভারত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে। গত ডিসেম্বর বালুকা এলাকায় ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে যা হাদির মৃত্যুর পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই ঘটে।
গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেয়। সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায় এবং পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, হাসিনার পতনে ভারত বড় ধরনের কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তারা অস্বস্তিতে রয়েছে। নয়াদিল্লির ধারণা, জামায়াতসহ ধর্মীয় শক্তিগুলো বাংলাদেশের নীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে যা ভারতের স্বার্থের জন্য হুমকি।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও গত বছর এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ইউনূসের প্রথম বৈঠক হয়। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, মোদি “গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন” পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ওই বৈঠকে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও আলোচনা হয়, যদিও তিনি এখনো ভারতে রয়েছেন।
ভারত আসন্ন নির্বাচনকে কীভাবে দেখছে?
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য ঝুঁকি অনেক।
কুগেলম্যান বলেন, ভারত চায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি সরকার আসুক, যারা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী হবে এবং যেসব শক্তিকে ভারত তার স্বার্থের জন্য হুমকি মনে করে তাদের প্রভাবমুক্ত থাকবে।
রেজওয়ান বলেন, জামায়াত বা অন্যান্য ইসলামপন্থী দল সরকারে এলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উপেক্ষা করা সহজ হবে না।
তিনি বলেন,বাণিজ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি ও সাংস্কৃতিক-মানবিক সম্পর্কের স্বার্থে ঢাকার যে কোনো সরকারকেই ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ভোটের সময় ভারতের বিরুদ্ধে উত্তেজক বক্তব্য জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে বাস্তববাদী অবস্থান নিতে হয়।
‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে আসছে। গত মাসে চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের নির্বাচন সফল হোক—এমন কামনা করেন। জানুয়ারির শুরুতে তিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ঢাকায় এসে তাঁর ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন।
কুগেলম্যানের মতে, জামায়াত জিতলে ভারত উদ্বিগ্ন হবে, তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। তিনি বলেন, আজকের বিএনপি আর জামায়াতের সঙ্গে জোটে নেই এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
পাকিস্তান–বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
হাসিনার পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইউনূসের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেন। গত সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায় এসে সম্পর্ক 'পুনরুজ্জীবিত' করার উদ্যোগ নেন।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন শীতল সম্পর্কের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইউনূসের উদ্যোগে দুই দেশ সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু করে। গত সপ্তাহে ১৪ বছর পর সরাসরি ফ্লাইটও চালু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপও হয়েছে।
রেজওয়ান বলেন, পাকিস্তান মূলত প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে ভারতের পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে চায়।'
কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান উভয় দলকেই স্বাগত জানাবে, তবে জামায়াত জিতলে তারা বেশি সন্তুষ্ট হবে। বিএনপি এলে পাকিস্তান মেনে নেবে, তবে তারা চাইবে না ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আবার ঘনিষ্ঠ হোক।
চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে সমর্থন করলেও ১৯৭৫ সাল থেকে চীন–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
হাসিনা ও ইউনূস উভয় সরকারের আমলেই চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান নিশ্চিত করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং।
রেজওয়ান বলেন, চীন বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত সমর্থন দিয়েছে। ফলে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন আরও শক্তিশালী।
চীন নির্বাচনকে কীভাবে দেখছে?
চীন নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গত বছর জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা চীনের জন্য জরুরি, কারণ তাদের বড় বিনিয়োগ জড়িত।
রেজওয়ানের মতে, চীনের কোনো নির্দিষ্ট প্রিয় দল নেই। তিনি বলেন, যে দলই জিতুক, চীন তাদের সঙ্গে কাজ করবে এবং অন্য দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখবে। চীনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নতুন সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সীমিত রাখা।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে: ডা. জুবাইদা রহমান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি