৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত কখনোই ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি: রিজভী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত কখনোই ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি: রিজভী
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত কখনোই ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের ত্রিপুরাস্থ ধলাই জেলার গোমতি নদীর ওপর থাকা ডুম্বুর বাঁধের গেইট খুলে দেয়ার কারণে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের মনে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহে প্রতিবেশী দেশ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থকে বিপন্ন করছে। তিনি বলেন, কেন যেন ভারত বাংলাদেশের মানুষ, তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবন—যাপনের প্রতি উদাসীন। বাংলাদেশের মানুষের বাঁচা—মরাকে তারা কখনোই আমলে নেয় না। সচেতনভাবেই ডুম্বুর বাঁধের গেইট খুলে দেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশের মানুষ মনে করে। বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত কখনোই ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি। রিজভী বলেন, উজানের পানিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৯ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জায়গা—জমি, শত শত গ্রাম ও সড়ক তলিয়ে গেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত, লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন—যাপন করছে। প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গবাদি পশু, ফসল ইত্যাদি পানিতে ভেসে গেছে। ফেনী, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম মূলত পানির নিচে। শুকনো খাবার, খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব এবং বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষের জীবনকে ভয়াবহ বিপন্ন করে তুলছে। জেলা শহরের সাথে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বন্যায় চারজনের মৃত্যুসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ লাখের কাছাকাছি মানুষ। প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি অধিকাংশ শহরের নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণরুপে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলিতে ত্রাণ বিতরণ আরও বেশি জোরদার করতে হবে। বন্যা দূর্গত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থলে পৌঁছাতে সরকারসহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে উদ্ধার কাজের জন্য নেমে পড়তে হবে। এবারের বন্যা আড়াই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের উত্তর—পূর্বাঞ্চলের জেলা সমূহের বিস্তির্ণ এলাকায় ব্যাপক বন্যার প্রকোপে বন্যা উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সমর্থকবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সামর্থবান ও ধনী ব্যক্তিদেরকেও বন্যার্তদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সামগ্রিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বন্যা দূর্গত মানুষ নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বিপি/টিআই
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি