১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  বাংলা কিউআর পেমেন্ট নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নিয়ম আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লেনদেনের সময় যদি গ্রাহকের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয় কিন্তু লেনদেন ব্যর্থ হওয়ায় মার্চেন্ট বা বিক্রেতা টাকা না পান, তবে ইস্যুয়িং ব্যাংক বা এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে ওই টাকা গ্রাহকের হিসাবে ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো অভিযোগ দায়ের করতে হবে না।

ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায় যে ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গ্রাহক টাকা পরিশোধ করেন। অন্যদিকে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায় যে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্চেন্ট বা বিক্রেতা পেমেন্ট গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, যে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়।

যেসব বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহক লেনদেনের ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানাতে পারবেন। ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে সেই দাবি গ্রহণ বা বাতিল করতে হবে। তারা ব্যর্থ হলে বিষয়টি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) সেন্ট্রালাইজড ডিসপুট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (ডিএমএস) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ‘চার্জব্যাক’ প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।

অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে চার্জব্যাকের জবাব দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও যদি বিরোধের নিষ্পত্তি না হয়, তবে বিষয়টি আরবিট্রেশন বা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হবে, যা অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

পণ্য না পাওয়া, ডাবল পেমেন্ট, ভুল বিলিং এবং গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কাটা গেলেও মার্চেন্ট টাকা না পাওয়ার মতো সমস্যাগুলোর জন্য নীতিমালায় আটটি নির্দিষ্ট ‘চার্জব্যাক রিজন কোড’ চালু করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অভিন্ন করতেই এই কোডগুলো আনা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন ‘ট্রানজেকশন স্ট্যাটাস ইনকোয়ারি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া গেলে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানের কাছে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করতে পারবে। এতে গ্রাহকদের ম্যানুয়ালি অভিযোগ দায়ের করার প্রয়োজনীয়তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতাদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য মার্চেন্টের আওতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগে শুধু তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতারা এই সুবিধা পেলেও, এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্সধারী যেসব মার্চেন্ট এনপিএসবি চ্যানেলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করেন, তারাও এই প্রণোদনা পাবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা কিউআরে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেন মূল্যের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে মাসিক নগদ প্রণোদনা পাবে। মূল প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি