বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তির উপযুক্ত বয়স

বাংলাপ্রেস ঢাকা : জন্মের পর থেকেই শিশুর শিক্ষা নিয়ে মা-বাবা টেনশনে সময় পার করেন। মা-বাবা আশা করেন, সন্তানকে ভর্তি করাবেন ভালো স্কুলে। ভর্তির মৌসুম এলেই নাওয়া-খাওয়া, অফিস-আদালত বাদ দিয়ে কাকডাকা ভোর থেকে স্কুলের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন মা-বাবা।
অসীম ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করেন একটি ভর্তি ফরমের জন্য। তবে যে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন তা হলো—শিশুর স্কুলের বয়স। তিন না চার। শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, শিশুর ভর্তির বয়স হওয়া উচিত তিন-সাড়ে তিন। কারণ বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ মা-বাবা দুজনই চাকরিজীবী হন। মা গৃহবধূ হলেও তাঁকে ঘরে-বাইরে নানা কাজ সামলাতে হয়। দেখা যায়, চাকরিজীবী ও গৃহিণী কেউই শিশুকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তার মানে এই নয় যে তাঁরা শিশুর দেখভাল বা যত্ন করেন না। আসলে মায়ের কাছে শিশুর যে সঙ্গ পাওয়া দরকার, যা শিশুকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে উঠতে সাহায্য করে, সেই সঙ্গ তারা পায় না।
ছোট্ট অপরিসর ফ্ল্যাট, সবুজবিহীন কংক্রিট—এই ক্ষুদ্র পরিবেশে শিশুদের সময় কাটে হয় টেলিভিশন, নয় ইন্টারনেটে। ফলে তারা অনেক সময়ই সঠিক ও যুগোপযোগী গাইডেন্স পায় না। এই পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা অমনোযোগী, জেদি ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। ফলে অকারণে পরিবারে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। তাই শিশুমনকে সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ ও আত্মকেন্দ্রিক হওয়া থেকে মুক্তি দিতে তিন বছর বয়সেই তাদের স্কুলে পাঠানো উচিত। তিন বছর বয়সের মধ্যেই একটি শিশুর সুস্থ মানসিকতা ও অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই বয়সের শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট স্কুলগুলোতে সাধারণত সিলেবাসের বইয়ের বোঝা থাকে না। বরং সেখানে তারই সমবয়সী বিভিন্ন মানসিকতার শিশুর সংস্পর্শে সে আসে। গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। স্কুলের প্রশস্ত প্রাঙ্গণে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি, টিফিন খাওয়া, লুকোচুরি বা অন্য খেলা তারা দারুণ উপভোগ করে। খেলাচ্ছলে তারা শেখে যৌথ জীবনের মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত চাহিদাকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া; মানিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।
সমবয়সীদের সঙ্গ পেয়ে তাদের মুখে ফোটে বুলি, আর সার্থক হয় ‘কমিউনিকেটিভ স্কিল’। খেলার উপকরণ, সঙ্গী, সময় এবং উপযুক্ত স্থান পেয়ে মুকুলগুলো যথার্থভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিজীবন থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে পায় প্রাণচাঞ্চল্য।
অন্যদিকে শিক্ষকদের সহূদয় সাহচর্য যেমন তাদের সহমর্মী, ব্যক্তিত্বময় ও আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে, তেমনি স্কুলের গাড়ি কিংবা বাড়ির গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনে স্কুলে যাতায়াতের পথে শহরের নানা দৃশ্য, পাখি দেখা, কখনো রেলগাড়ি দেখা শিশুর জানার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং শিশুর মানসিক যে খোরাক থাকে অন্তরে, তা শিশু পায় স্কুলের বৃহত্তর পরিবেশে।
শিশুকে তাই তিন বছর বয়সের মধ্যেই স্কুলে পাঠানো যেতে পারে। জীবনের শুরুতেই অভিভাবকদের সিদ্ধান্তহীনতায় শিশু পিছিয়ে পড়লে পরিবার ও সমাজের যথার্থ কল্যাণ হবে না।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি