
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য সমাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরাজয় মেনে নয়া নিয়ে উল্টো আরও ৪ বছর ক্ষমতায় থাকার আশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই ৪ বছরের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি নিজের ইচ্ছার কথা বলেন।
হোয়াইট হাউসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের শতাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা অসাধারণ ৪টি বছর কাটালাম। আমরা আরও ৪ বছর থাকছি। আমরা আরও চারবার এ ধরনের অনুষ্ঠান করব। কিন্তু তাদের এটি পছন্দ হচ্ছে না। সৎভাবে যদি বলি, এটি খুবই লজ্জার ব্যাপার।
অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের অধিকাংশের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিও সেভাবে মেনে চলা হয়নি। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও মিথ্যা দাবি করে বলেন, তিনিই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারা (ডেমোক্র্যাটরা) এটা পছন্দ করেনি। আমার আইনি দলের সঙ্গে যে ভুয়া শুনানি হয়েছে, তা কি আপনারা দেখেছেন? সত্যিই এটি ছিল হতাশাজনক।’
ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় হেরে যাওয়া ও এরপর ওই অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পক্ষে অবস্থান তৈরি করতে চালানো চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কথা বলেন। বরাবরের মতোই সেখানেও তিনি নির্বাচনে নিজেকেই জয়ী বলে দাবি করেছেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত এর বাইরে কিছুই বলেননি তিনি।
তবে নিজের পরাজয়ের বিষয়টি তাঁর কাছে পরিষ্কার বলেই এখনই আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে কথা বলা শুরু করেছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ঘনিষ্ঠদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি আলাদা কমিটিও গঠন করেছেন তিনি। রিপাবলিকান দলের ওপর তাঁর প্রভাব এখনো অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। এটা এতটাই যে, ট্রাম্পকে এড়িয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানানোর কাজটিও খুব বেশি রিপাবলিকান নেতা করতে পারেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের সঙ্গে আবার এই সময়ে দূরত্বও তৈরি হয়েছে।
জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের দিন ট্রাম্প অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন না
ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন, তবে অনেক রিপাবলিকান নেতার জন্যই আগামী চার বছর বেশ জটিল হয়ে উঠবে। কারণ, একদিকে তাঁদের ট্রাম্পকে সমঝে চলতে হবে। অন্যদিকে নতুন প্রশাসনের অধীনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে গেলে এমন অনেক কাজ করতে হবে, যা হয়তো ট্রাম্পের পছন্দ হবে না। ফলে দুই নৌকায় পা রেখে চলার মতো বিপজ্জনক কাজ তাঁদের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। আবার এমন অনেক শীর্ষ নেতা রয়েছেন, যারা ট্রাম্পের কারণে এবার প্রার্থী হননি। পরেরবার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন। এমন নেতারা দ্রুতই ট্রাম্পকে ত্যাগ করতে পারেন।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]