আইসিই'র ভয়ে পাসপোর্ট সঙ্গে রাখছেন মার্কিন নাগরিকরা
আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শহরগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)'র অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিক ঘর থেকে বের হচ্ছেন না পাসপোর্ট ছাড়া। নাগরিকদেরও আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভয়ের এক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই যেখানেই যান না কেন, পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখছেন।
কোন নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে?
প্রোপাবলিকা'র এক অনুসন্ধান অনুযায়ী, আইসের অভিযানে অন্তত ১৭০ জন মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এতে করে 'ভুলবশত আইসিই'র হেফাজতে নেওয়া এবং জটিল অভিবাসন হেফাজত ব্যবস্থায় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা' তৈরি হয়েছে বলে এনপিআরের কেকিউইডি-এফএম-কে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনে পাসপোর্ট বহন বাধ্যতামূলক না হলেও, নাগরিকরা 'বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নথিপত্র সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।'
খবর অনুযায়ী, যাঁরা এভাবে পাসপোর্ট বহন করছেন, তাঁদের বড় অংশই রঙিন ত্বকের মানুষ এর মধ্যে বহু লাতিনো মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। নিউ অরলিন্সের এক উপশহরে বসবাসকারী ওয়াল্টার ক্রুজ পেরেজ ২০২২ সাল থেকে মার্কিন নাগরিক। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, তিনি আগে শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সই বহন করতেন। কিন্তু নিউ অরলিন্সে আইসের অভিযান বাড়ার পর থেকে তিনি 'মোবাইল ফোনের কভারের ভেতর পাসপোর্ট রাখার অভ্যাস' গড়ে তুলেছেন। তাঁর কমিউনিটির মানুষজন খবরে দেখেন, অনেকেরই নিজের পরিচয় জানানোর সুযোগ মেলে না। তিনি বলেন, তাই ঝামেলা এড়াতে যা করা দরকার, সেটাই করতে হয়।
অন্যান্য রঙিন ত্বকের মানুষও নথিপত্র বহন করছেন বলে জানা যাচ্ছে। মিনেসোটায় বড় সোমালি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আইসিই অভিযান চলার মধ্যে, তাঁদের অনেকেই নিজেরা নাগরিক এটা প্রমাণ করতে পাসপোর্ট বহন করা ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করছেন এমনটাই জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য জামাল ওসমান সিবিএস নিউজকে বলেন, সোমালি আমেরিকানদের 'আইসিই থামিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলছে,' যা তাঁর কাছে জার্মানির ১৯৩০ ও ১৯৪০–এর দশকের মতো মনে হচ্ছে।
আইস কী চাইতে পারে?
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জোর দিয়ে অস্বীকার করেছে যে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের এমনকি ভুল করেও আটক করা হয়েছে। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রোনকাইট নিউজ জানায়, বিভাগটি আইসের অভিযানকে 'অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক' বলেছে। তবু, কাউকে থামানোর সময় আইস এজেন্টরা কী করতে পারেন আর কী পারেন না এ বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হচ্ছে।
এসিএলইউ নরক্যাল-এর সিনিয়র আইনজীবী ব্রি বার্নওয়াঙ্গার কেকিউইডি-এফএম-কে বলেন, মার্কিন নাগরিকদের কাগজপত্র বহন বা নাগরিকত্বের প্রমাণ সঙ্গে রাখার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। যুক্তিসঙ্গত কোনো অপরাধ-সন্দেহ না থাকলে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের “মানুষ থামানো বা আটক করার কথা নয়। তবে তিনি যোগ করেন, এই আইনহীন প্রয়োগের মুখে মানুষকে নিজস্ব স্বস্তির জায়গা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
অনেক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, নাগরিক হলেও পাসপোর্ট বহন করা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে। টেলিমুন্ডো শিকাগোকে দেওয়া অনূদিত সাক্ষাৎকারে আইনজীবী লায়লা সুলেইমান গনসালেস বলেন, 'পাসপোর্ট বহন করাই ভালো এটাই সেরা। তবে আইস আপনাকে থামালেও, আপনাকে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না, আপনি কোথা থেকে এসেছেন, নাগরিক কি না এসব বলারও বাধ্যবাধকতা নেই। আপনাকে তাদের সঙ্গে কথা বলতেই হবে না।'
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি