৫ মে ২০২৬

৫১ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতে কোনো নারী প্রার্থী নেই

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
৫১ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতে কোনো নারী প্রার্থী নেই

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্র“ত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাহ্য করেছে। ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টিতে কোনো নারী প্রার্থী নেই বলেও অভিযোগ করে নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম। 

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফোরামের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা করেন সংগঠনের প্রতিনিধি শিল্পী ও নির্মাতা ঋতু সাত্তার। এ সময় নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামভুক্ত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংগঠনগুলো হচ্ছে- ক্ষুব্ধ নারী সমাজ, গণসাক্ষরতা অভিযান, দুর্বার নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন, নাগরিক কোয়ালিশন, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (নউক), নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা, নারী সংহতি, নারীপক্ষ, নারীর ডাকে রাজনীতি, ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (ফ্যাব), বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও ভয়েস ফর রিফর্ম।

তাদের দাবি, দলগুলো ঘোষিত ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নও বাস্তবায়ন করেনি, যা নারী নেতৃত্বের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহারই প্রমাণ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টির কোনো নারী প্রার্থী নেই।

জুলাই সনদে দেওয়া শ্রতিশ্রুতিকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দেয়নি বলে উলে­খ করে ঋতু সাত্তার বলেন, নারীরা রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মনোনয়নের ৫ শতাংশও দিতে পারেনি কোনো রাজনৈতিক দল। যৌথ নারী প্রার্থী থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে শক্তিশালী ও যোগ্য নারী নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখা হচ্ছে না।

তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে প্রথম বেরিয়ে আসার মাধ্যমেই আন্দোলন গতি পায়। অথচ সেই নারীরাই আজ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত।

ঋতু সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, নারীদের কেবল কমিটিতে রাখা হয়; কিন্তু ডিসিশন মেকিং প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় না, এটাই বাস্তবতা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেষ মুহূর্তে কিছু স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত হতাশাজনক। 

ফোরামের দাবি, নির্বাচন কমিশন ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ ইলেকশন’-এর কথা বললেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক যোগ্য নারী শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। নির্বাচনি মাঠে নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলেও দাবি করেন তারা।

নারী রাজনৈতিক ফোরাম সংরক্ষিত আসনের বিপক্ষে উলে­খ করে তারা বলেন, আমরা নারীদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত আসন চাই না। নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক।

বক্তারা বলেন, ৫৪ বছর পর এমন একটি নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের ঘোষণাপত্র ও প্রতিশ্রুতি নিজেরাই রক্ষা না করে, তাহলে ভবিষ্যতে নারীরা কেন তাদের ওপর আস্থা রাখবে-এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাহরুখ মহিউদ্দীন, বহ্নিশিখার পরিচালক সামিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি