২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে ন্যূনতম মজুরি
আবু সাবেত: ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হচ্ছে, যা থেকে উপকৃত হবেন কোটি কোটি শ্রমিক। মুদ্রাস্ফীতির গতি কিছুটা কমলেও আবাসন, খাদ্য ও পরিবহনসহ মৌলিক ব্যয় মেটাতে এখনও বহু আমেরিকান পরিবার হিমশিম খাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি দেশজুড়ে পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট ল’ প্রজেক্ট (এনইএলপি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে মোট ৮৮টি প্রশাসনিক এলাকায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ৬৬টি শহর ও কাউন্টি। এসব এলাকার অধিকাংশে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলার বা তার বেশি হবে, যা বর্তমান ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির দ্বিগুণেরও বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে মজুরি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা যে ক্রমেই বাড়ছে, এই ব্যাপক উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে ও শহরে এই মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কে নিউ ইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টায় ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য অংশে এটি বেড়ে হয়েছে ১৬ ডলার। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ওয়াশিংটনে ন্যূনতম মজুরি সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ১৩ ডলার, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ দশমিক ৯০ ডলার এবং কানেকটিকাটে ১৬ দশমিক ৯৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মজুরির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
ফেডারেল পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর জন্য একাধিকবার আইন প্রণয়নের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। ফলে ২০০৯ সালের পর থেকে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি এখনও ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলারে স্থির রয়েছে। ফেডারেল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার নিজ উদ্যোগে আইন পাস করেছে বা গণভোটের মাধ্যমে মজুরি বাড়িয়েছে। এসব বৃদ্ধি মূলত মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলা এবং নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কিছু অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালের শেষের দিকে মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আলাস্কা ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১৪ ডলার, ফ্লোরিডা ১৫ ডলার এবং ওরেগন এলাকাভেদে ১৪ দশমিক ০৫ থেকে ১৬ দশমিক ৩০ ডলারে উন্নীত করবে। এসব ধাপে ধাপে বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত পার্থক্যকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালে ন্যূনতম মজুরি বাড়ছে না, যদিও তাদের অনেকের বর্তমান হার ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি। ইলিনয়, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস ও ডেলাওয়ারে ন্যূনতম মজুরি ইতোমধ্যেই ঘণ্টায় ১৫ ডলার। তবে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বহু অঙ্গরাজ্যে এখনও ফেডারেল হার ৭ দশমিক ২৫ ডলারই কার্যকর রয়েছে। জর্জিয়া ও ওয়াইয়োমিংয়ে রাজ্য নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি মাত্র ৫ দশমিক ১৫ ডলার হলেও বাস্তবে ফেডারেল হারই প্রযোজ্য।
এই পার্থক্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একটি বড় আঞ্চলিক মজুরি বৈষম্যকে স্পষ্ট করে তোলে এবং দেখায় যে ফেডারেল সিদ্ধান্তের অভাবে ন্যূনতম মজুরি মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভরশীল। এর ফলে দেশের একেক প্রান্তে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা একেক রকম রয়ে গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন—যার মধ্যে রয়েছে আয় বৈষম্য এবং শ্রমজীবীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন। ২০২৬ সালের পরিবর্তন বহু শ্রমিকের জন্য এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হলেও, সবার জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে এখনও অনেক পথ বাকি।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি