সাত দেশের নাগরিকদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
আবু সাবেত: ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে একাধিক নীতি পরিবর্তন ও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জারি করা এক নির্বাহী আদেশ ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও সাতটি দেশ যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দেশগুলো হলো বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, লাওস ও সিয়েরা লিওন।
একই সঙ্গে সীমান্ত ও প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এক নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন কাস্টমস এবং সীমান্ত সুরক্ষা (সিবিপি) এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব অ-নাগরিকের কাছ থেকে ফেসিয়াল রিকগনিশন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এর মধ্যে গ্রিন কার্ডধারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বিমানবন্দর, স্থল সীমান্ত ও সমুদ্রবন্দর সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ভবিষ্যতে বিদেশি ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই আরও গভীর যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সিবিপি পরিকল্পনা করছে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ)-এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে গত পাঁচ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করতে। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ২০২৫ সালের এক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে এ উদ্যোগকে যুক্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চমূল্যের একটি নতুন স্থায়ী বসবাসের সুযোগ চালু করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে এক মিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচি, যার আওতায় ইবি-১ বা ইবি-২ ক্যাটাগরিতে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) সুযোগ দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আসতে পারে।
নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহীদের জন্য প্রক্রিয়াটিও আরও কঠিন করা হয়েছে। নতুন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় মৌখিক প্রশ্নের সংখ্যা দ্বিগুণ করে ২০টি করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১২টি সঠিক উত্তর দিতে হবে পাস করতে। এছাড়া পরীক্ষাটি থেকে ভৌগোলিক প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এখন সরকারব্যবস্থার তিনটি শাখার নাম সঠিকভাবে বলতে পারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিয়ে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, যদিও স্বামী বা স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবু এসব বিয়ের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি করা হবে। শুধু বৈবাহিক সম্পর্ক নয়, বাস্তবিক সহবাস আছে কি না সেটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।
একই সময়ে কিছু অঙ্গরাজ্য নিজস্ব অভিবাসন নীতিও চালু করছে। টেক্সাসে সিনেট বিল–৮ অনুযায়ী, কাউন্টি জেল পরিচালনাকারী শেরিফদের ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় শেরিফদের ২৮৭(জি) চুক্তিতে সই করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা আইসিই-এর সঙ্গে অংশীদার হয়ে জেলখানার ভেতরে সীমিত ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পাবেন। সমর্থকদের মতে, এতে রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয় জোরদার হবে। তবে সমালোচকদের দাবি, এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত খরচ ও দায়িত্ব চাপবে।
অবসরপ্রাপ্ত বর্ডার প্যাট্রোল সেক্টর চিফ ক্রিস ক্লেম বলেন, 'ভিসা সংস্কার ও ভিসা সীমাবদ্ধতা' এগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অন্তত যতদিন না আমরা জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে পারছি। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অপরাধ তদন্তে আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি আইন ও প্রতিটি উপকরণ ব্যবহার করা উচিত।
এই নতুন বাধ্যবাধকতা প্রায় সব টেক্সাস কাউন্টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যেখানে জেলখানা পরিচালিত হয়।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি